পূর্বজন্ম বলে কিছু থেকে থাকলে গেল জন্মে আমি নিশ্চিত ষাড় ছিলাম। মানিক পীরের ষাড়! ঘাড়-তেড়া মনোভাবটা এ জন্মেও রয়ে গেছে। দ্য ট্রায়াল অফ্ মাল্লাম ইলিয়া নাটক অনুবাদ হওয়ার সেটাই বোধকরি বড় কারণ! লেখাটা ঘাড়ের উপর এসে পড়লে, পড়ে মনে হল অনুবাদ করা কঠিন, মঞ্চস্থ করাও; সেটাই হলো কাল: শিল্প আমাকে চ্যালেঞ্জ করলে আমি গ্রহণ করি। নাটকটিকে অনূদিত হতে হলো, আর সেই ছিল সব্বোনাশের শুরু। সব্বোনাশ আমার না বটতলা’র সেটা এখনও অমিমাংসিত। ঘাড়-তেড়া লোকজন পৃথিবীতে আরো আছে বিধায় নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছে।
বাকি কথা প্রথাগত: নাটকের প্রাসঙ্গিকতা: বিষয়গত এবং আঙ্গিকগত। ’৭৫ পরবর্তী উপর্যুপরি ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাস এবং ক্ষমতাবানদের হাতে লেখা ইতিহাসের গল্প আমরা জানি, কিংবা খুব ভালো জানি কি? অতীতকে ব্যাখ্যা করা জরুরি, ভুলে যাওয়া বা ভুলে যাওয়ার ভান করা নিন্দার্হ। এ নাটক একটি ব্যাখা দাঁড় করাবে, যথার্থতা দর্শক-বিবেচ্য। এবং সময়ের একমাত্রিক নয়, বহুমাত্রিক ধারণা যেখানে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত সহবাস করে। এমন প্রকাশভঙ্গি আফ্রিকান, লাতিন আমেরিকান এবং প্রাচ্যের সাহিত্যে অবিরল। গঠনগত এই সাযুজ্য আমাদের নাড়া দেয় তাই পাশ্চাত্য নাট্যধারণার বিপরীতে রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক এই অবস্থান।