নির্দেশকের কথা
২০১০ সালে একুশে বই মেলায় বের হল নাটকের বই ‘খনা’- যুক্ত প্রকাশনী থেকে। এরপর বটতলা’র বন্ধুদের তীব্র আগ্রহ থেকেই নির্মাণ করি এ নাটক। এ যেন নাটক নয়, আমাদের সামনে মূর্ত হয় দেউলনগর, বেঁড়াচাপা, দেগঙ্গা হাড়োয়ার মানুষের জীবনাচার। খনা যার অন্য নাম লীলাবতী যেন মিশে যায় অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতের পুরুষতান্ত্রিকতার নিগড়ে বাঁধা এক প্রতিবাদী নারীরূপে। ক্ষমতা আর পুরুষ পৃথিবীর ঘেরাটোপ যেন কখনোই কোন নারীকে অতিক্রম করতে দেবে না সীমারেখা। যে সীমারেখা তৈরী এ পুরুষতান্ত্রিকতার বেড়াজালে। প্রাকৃতজনদের নিজেদের জ্ঞান-ভালোবাসার লড়াই, রাজন্য শ্রেণীর নারীর প্রতি অবিবেচক দৃষ্টিভঙ্গি আর সাধারণের সংগ্রাম এতে জীবনের সত্য রূপে ধরা দেয়। খনা’র নাট্যভাষা আমাদের কাছে ধরা দেয় এক ভিন্ন ভাষা আঙ্গিকে যা আমদের অচেনা কিন্তু এক মোহময় গীতলতায় মিশে যায় আমাদের কণ্ঠে-দেহে-ভাবনায়। নাট্যকারের এ ভাষারীতিই আমাদেরকে খনা নির্মাণে উৎসাহিত করে।
যুক্ত প্রকাশনীকে ধন্যবাদ নাটকটি মঞ্চে নামানোর তাগিদ তৈরির জন্য। আর বটতলা’র বন্ধুদের কৃতজ্ঞতা নতুন দল হওয়া সত্ত্বেও এত দুরূহ ও বড় নাট্য আয়োজন অতি অল্প সময়ে অনেক শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে নির্মাণের কাজে ব্রতী হওয়াতে।