Update
Total Show till now: 18
Last Show: 2 June 2018
Next Show: ..........

১৪২২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপনে আসা নারীদের উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও সোহরোওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথের আশে-পাশে ঘটা যৌন নিপীড়নের ঘটনা বিবেচক সকল নাগরিককে ক্ষুব্ধ করেছিল। প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছিল নানা নাগরিকমঞ্চ। 
নারীর প্রতি এ সহিংসতা বহুযুগের – কখনো দৃশ্যমান, কখনো অদৃশ্য, অগোচর। দোষীদের বিচার হবার উদাহরণ এদেশে বড় কম। তাই যেন আজ ধর্ষণ আর যৌন নিপীড়নের চারণভূমি আমার দেশ। বটতলা মনে করে নারীর বিরুদ্ধে এ সহিংস আচরণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নারীকে সমাজ অধস্তন ভাবে নির্মান করে আর নারী যখন সেই অধস্তনতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর হবার পথে দৃপ্ত পায়ে হাঁটতে শুরু করে তখন উচ্চমন্য পুরুষতান্ত্রিক মন তাকে মেনে নিতে পারে না, তার নিরবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার পথে নারীর সচলতাকে সে হুমকি হিসেবে দেখে। তাই নারীকে চার দেয়ালের মাঝে আটকে রাখার চক্রান্তে নেমে পড়ে। নারীর সকল সচলতা, উৎসব আর উদযাপন কে রুখে দিলেই নারী ভয় পেয়ে ফিরে যাবে গৃহকোণে – এই চাওয়া এধরনের নৃশংসতাকে উৎসাহ দেয়। সাথে যোগ হওয়া পন্য সংস্কৃতি নারীকে সহজলভ্য ভোগ্য পন্যরূপেও নির্মান করে। কাজেই নারীর শরীর যেন পুরুষের ক্ষমতা ও যৌনলীপ্সা প্রয়োগের খালি দেয়াল হয়ে ওঠে ।
বটতলা বিশ্বাস করে পুরুষের (লক্ষ্যণীয়, যারা নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী তাদের আমরা ‘মানুষ’ গন্য করি) এই প্রবৃত্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শন বন্ধ করা সম্ভব তার সাংস্কৃতিক ও মনোজাগতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে যার শুরুটা করা যায় তার আচরণে পুরুষতান্ত্রিকতা ও ক্ষমতলীপ্সা চিহ্নিত করার ভেতর দিয়ে । বটতলা প্রথমত সেই কাজটা শুরু করতে চায়। দ্বিতীয়ত, যৌন নিপীড়নের শিকার হবার জন্য নিপীড়িতকেই দায়ী করবার অতিপুরাতন ও ভুল অভ্যাস ত্যাগ করার ও “পোশাক নয় নিপীড়নের জন্য নিপীড়ক দায়ী” এ বার্তা ছড়িয়ে দেবার গুরুত্ব অনেক বলে বটতলা সে কাজটাও করতে চায়।
এ লক্ষ্যে, বটতলার চার অভিনয়শিল্পী নারীদের নিপীড়নের অভিজ্ঞতা তাদের নিজের জবানিতে তুলে ধরার মাধ্যমে আর চুপ না থেকে ক্ষমতা প্রদর্শনের এ রাজনৈতিক সহিংসতাকে প্রতিরোধের দাবীর আগুন ছড়িয়ে দিতে চায় সবখানে। ‘আর নয় চুপ থাকা’ বটতলার চার শিল্পীর ইম্প্রভাইজেশন যা সকল দর্শককে এই প্রতিরোধে সামিল হবার পথে টেনে নিতে চায়।
বটতলার ৭ম প্রযোজনাটিতে অংশ নিচ্ছেন যথাক্রমে শেউতি শাহাগুফতা, কাজী রোকসানা পারভীন রুমা, সামিনা লুৎফা ও বাকিরুল ইসলাম। উপদেষ্টাঃ মোহাম্মদ আলী হায়দার।