কৃষ্ণকুমারী সিনহা

বটতলা সম্মাননা ২০১৬
৫ ডিসেম্বর ২০১৬ সোমবার
সিলেট বিভাগ

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ঝাঁপের গাঁও (মাধবপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণকুমারী সিনহা। কৈশোরেই গানে হাতেখড়ি হয় তার। একজন পালাকারের অধীনে দীর্ঘদিন গান ও নৃত্যশিক্ষা করেছেন। আঠারো বছর বয়সে প্রথম গানের শিল্পী হিসেবে মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীসময়ে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীতে চার বছর মেয়াদী মণিপুরী প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। নিজ অঞ্চল ও ভারতের আসাম-ত্রিপুরা মিলিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০০ এর অধিক মণিপুরী রাসলীলায় সুত্রধারী (প্রধান গায়িকা) হিসেবে গান করেছেন। এছাড়া শতাধিক মণিপুরী রাসলীলায় নৃত্যশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রায় ৩০ বছর যাবত মণিপুরী নৃত্যগুরু হিসেবে কাজ করছেন কৃষ্ণকুমারী সিনহা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টির মতো মণিপুরী রাসলীলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মণিপুরী রাসলীলা পরিচালনা করেছেন।
রাসলীলা ছাড়াও কৃষ্ণকুমারী মণিপুরীদের অন্যান্য পরিবেশনা নিয়ে নিরীক্ষধর্মী কাজ করেছেন যেমন- উদুখলরাস, রাখালরাস ইত্যাদি। টিভি চ্যানেলও কৃষ্ণকুমারী সিনহা কর্তৃক পরিচালিত রাসলীলা পরিবেশিত হয়েছে। সিলেট বেতার মণিপুরী বিষয়ক অনুষ্ঠান করেছেন তিনি। প্রায় ১০ বছর ধরে মণিপুরী থিয়েটারে মণিপুরী সঙ্গীত ও নৃত্যবিষয়ক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০১২ সাল হতে এখন পর্যন্ত ধ্রæমেল নামে একটি প্রকল্পে মণিপুরী সঙ্গীত ও নৃত্য বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এই গুণী।
২০০৯ সালে মণিপুরী থিয়েটারের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা ও পদক পান তিনি। ২০১২ সালে মণিপুরী তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র পৌরি-এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ও পদক ২০১৩ সালে বাংলাদেশ মণিপুরী রাসপূর্ণিমা উদযাপন পক্ষ হতে সম্মাননা ও পদক এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মৌলভীবাজার থেকে সম্মাননা ও পদক অর্জন করেন।
মৌলভীবাজারের নাট্যচর্চার অগ্রপথিক এমন একজন সৃজনশীল নাট্যজনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে বটতলা। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এক বাতিঘর- ভাবীকালের মঞ্চকর্মীদের প্রেরণা। সিলেট বিভাগের বটতলা সম্মাননা ২০১৬ কৃষ্ণকুমারী সিনহাকে দিতে পেরে বটতলা আনন্দিত।