মানবেন্দ্র বটব্যাল

বটতলা সম্মাননা ২০১৬
৭ ডিসেম্বর ২০১৬ বুধবার
বরিশাল বিভাগ

মানবেন্দ্র বটব্যাল এর জন্ম ১৫ জুন ১৯৪৬। মানবেন্দ্র বটব্যালের পিতা প্রয়াত সুধাংশু বিকাশ বটব্যাল ও মাতা- প্রয়াত সাধনা বটব্যাল। জীবনে বিভিন্নমুখি কর্মকাণ্ডরে পাশাপাশি তিনি বরিশালে একজন সুঅভিনেতা ও আবৃত্তিকার এবং আবৃত্তি প্রশিক্ষক হিসাবেও সুপরিচিত। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত অবস্থায় তিনি প্রথমে হিন্দু মাইথোলজির ভিত্তিতে রচিত শিশু নাটক যযাতি দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। স্কুল জীবনেই তিনি স্কুলের বাৎসরিক নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন। তার নাটকের পথচলা পিতার হাত ধরেই। কলেজ জীবনে একজন ছাত্রনেতা হয়েও তার সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত ছিল। নগরীর যে পাড়ায় বসবাস করেন সেখানেও নাটকে অংশ নিতেন। পাকিস্তান সরকার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেবার প্রতিবাদে বরিশালের কয়েকজন গুণীজন গঠন করেন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রান্তিক। যখন এই সংগঠনটি জন্ম নেয় তখন মানবেন্দ্র বটব্যাল ছিলেন কারাগারে। কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর প্রান্তিকের সাথে যুক্ত হন। দেশের স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে বরিশালে সত্যেন সেন প্রতিষ্ঠিত উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর বরিশাল জেলা শাখা গঠনের পর সরাসরি উদীচীর কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। এমনকি সংগঠনটির সভাপতি হলেও প্রান্তিকের সাথে তার সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নাটকে অভিনয় করতেন। পরবর্তিতে ভিন্ন ধারার নাটক পরিবেশনার মাধ্যমে সমাজ সচেতনতা বাড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল নাটক প্রতিষ্ঠায় যে ক’জন ব্যক্তিমূল উদ্যোক্তা ছিলেন তারমধ্যে মানবেন্দ্র বটব্যাল অন্যতম। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি এই সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক। এমনকি এই সংগঠনের প্রথম নাটক সুবচন নির্বাসনে থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন নিজে সংগঠনটির বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন নাটক নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার অভিনীত ও পরিচালিত সংগঠনটির দ্বিতীয় নাটক সমরেশ বসুর ছোট গল্প অনুকরনে রচিত আবর্ত বরিশালে সুনাম কুড়িয়েছে। বরিশাল নাটকের কর্মী হিসাবে তিনি অংশ নিয়েছেন একক অভিনয়ের নাটকে। সংগঠনটির বহু সংখ্যক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ও পথনাটকেও তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। আবার একাধিক ভিন্নধর্মী যাত্রা পালাতেও অভিনয় করেছেন অবলীলায় অর্থাৎ নাটকের যতগুলো মাধ্যম আছে তার প্রতিটিতেই তার পদচারণা আছে। দেশে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আবৃত্তি চর্চার জন্য বরিশাল নাটক প্রাতিষ্ঠাণিকভাবে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে। রাজধানীতে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক জোট গঠনের বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন দু’বছর। বরিশালের নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নেবার জন্য একসময়ে কয়েকটি নাট্য সংগঠন সমন্বয়ে গঠন করা হয় নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন পরিষদ। এই সংগঠনটি গঠনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বরিশালে রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের প্রতিষ্ঠা পর্যায় থেকে শুরু করে আজও এই সংগঠনটির সাথে জড়িত আছেন। একসময়ে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন। বর্তমানে তিনি শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য। নাটক, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করায় বরিশাল নাটক, অমৃত সঙ্গীত একাডেমিসহ অপরাপর সংগঠন তাকে সম্মাননা দিয়েছে।
বরিশালের নাট্যচর্চার অগ্রপথিক এমন একজন সৃজনশীল নাট্যজনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে বটতলা। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এক বাতিঘর- ভাবীকালের মঞ্চকর্মীদের প্রেরণা। বরিশাল বিভাগের বটতলা সম্মাননা ২০১৬ মানবেন্দ্র বটব্যালকে দিতে পেরে বটতলা আনন্দিত।