মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমী

বটতলা সম্মাননা ২০১৬
২ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার
ঢাকা বিভাগ

পিতা এম.এম.এ রশীদ এবং মাতা শামছুন নাহার বেগম এর চতুর্থ সন্তান নাট্য রচয়িতা, অভিনেতা, নির্দেশক এবং বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমী ১৯৫৩ সালের ১৯শে এপ্রিল ময়মনসিংহের সূর্যকান্ত হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহে তাঁর বড় বোন নুরুন্নাহার বেগম বেলীর বাড়ীতে তিনি প্রতিপালিত হন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ফরিদপুরের ইয়াছিন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন।
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল তাঁর। শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ছবি বন্দোপাধ্যায় রচিত কেরানীর জীবন। আজও তিনি স্পষ্ট মনে করতে পারেন মঞ্চে উচ্চারিত তাঁর প্রথম সংলাপ ‘পাখি সব করে রব রাত্রি পোহাইল’। নাটক রচয়িতা মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমীর প্রথম লেখা মঞ্চ নাটক এবং তারপর ও পথনাটক তাল তবলচী ডুগডুগী। প্রথম নাট্য নির্দেশনা দুই ভাই। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে একদল তরুণ নাট্যকর্মী নিয়ে ৫ই বৈশাখ ১৩৮৫ (১৯শে এপ্রিল ১৯৭৮) তারিখে মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমী ফরিদপুর শহরে প্রতিষ্ঠা করেন বৈশাখী নাট্য গোষ্ঠী। এ নাট্যগোষ্ঠী এ পর্যন্ত রুমী এবং সিনিয়ার শিল্পীদের নির্দেশনায় ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, রংপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, যশোহর, মাগুরা ও রাজশাহীতে ৩৪টি মঞ্চ নাটকের কমপক্ষে ২০২টি প্রদর্শনী, ৩৮টি পথ নাটকের ৩৮২টি প্রদর্শনী, ১টি ফোরাম থিয়েটারের ২৩টি প্রদর্শনী অর্থাৎ সর্বমোট ৪০৫টি পথ নাটকের প্রদর্শনী করেছে। এছাড়া ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমী রচিত ও নির্দেশিত এবং তারপর নাটকটি সম্প্রচারিত হয়। তাঁর রচিত ৭টি নাটকের সমন্বয়ে দোযখ থেকে বলছি নামের নাটকের বই ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে সাফল্য সাথে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
বর্তমানে মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পশ্চিম আলীপুরে নিজ বাসভবনে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যরা হলেন স্ত্রী লায়লা আক্তার ও একমাত্র কন্যা তারান্নুম প্রাণা।
ফরিদপুরের নাট্যচর্চার অগ্রপথিক এমন একজন সৃজনশীল নাট্যজনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে বটতলা। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এক বাতিঘর- ভাবীকালের মঞ্চকর্মীদের প্রেরণা। ঢাকা বিভাগের বটতলা সম্মাননা ২০১৬ মুন্সী মুহাম্মাদ আলী রুমীকে দিতে পেরে বটতলা আনন্দিত।