শাহজাহান শাহ্

বটতলা সম্মাননা ২০১৬
৪ ডিসেম্বর ২০১৬ রবিবার
রংপুর বিভাগ

শাহজাহান শাহ’র জন্ম ১৯৪৬ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি। পিতা শাহ মোঃ ইসহাক ও মাতা – জয়নব খানুম। দিনাজপুর শহরের সেন্ট যোসেফস স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু। দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। বাল্যেই অঙ্কণ শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি। দিনাজপুরে প্রকাশিত বই, পত্র-পত্রিকার প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহে শেকসপিয়রের এ মিড সামার নাইটস ড্রিম ও হাসির নাটক বোকা চাকর দিয়ে বাল্যকালেই নাট্যচর্চা শুরু। সেই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর শহরের সংস্কৃতি চর্চার পাদপীঠ সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা, উপস্থাপনা, পরিবেশনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহে ইংরেজি, বাংলা ও উর্দু নাটকগুলোতে কাজ করতে করতে সময়ের প্রয়োজনে কখন যেন তিনি নিজেই নাটক লেখার দুরূহ কাজটি মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। কলেজ জীবনের মজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেম প্রহসনমূলক হাসির নাটক কার টোপে? লিখে নাট্যমহলে খ্যাতিমান হন। ১৯৬৯ সালে দিনাজপুরে নবনাট্য আন্দোলনের সারথি নবরূপী প্রতিষ্ঠা করেন ও প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভুথ্যানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সংগঠিত হয়ে ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে ও শহরে স্বাধীনতার সপক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়ে যেতে থাকেন। স্বাধীনতার পরে তিনি দিনাজপুর নাট্য সমিতির পরিচালক হিসেবে অন্ধকারের আয়না, ভূমিকম্পের আগে, ইতিহাসের মৃত্যু প্রভৃতি নাটকে তাঁর কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। উনসত্তর সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি নবরূপীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নবরূপীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন – জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, খাজা নাজিমুদ্দিন মুসলিম হল ও লাইব্রেরির সদস্য, দিনাজপুর ইন্সটিটিউটের সহ-সভাপতি, এফ পি এ বি – এর সহ-সভাপতি, আমরাই পারি- প্রচারাভিযানের দিনাজপুর জেলা সভা প্রধান, পল্লী শ্রী – এর কার্যকরী সদস্য, বিরল ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মোখলেসপুর হাই স্কুলের সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি। শাহজাহান শাহ রচিত ও নির্দেশিত নাটকগুলো হলো- অন্ধকারে একজন, আত্মহননের গান, ক্ষুধা, জান দেব জবান দেব না, ইত্যাদি ধরনের প্রভৃতি, বেহান কান্দে যেই আন্ধারে, রামসাগর, আবহমান বাংলা, বাড়ি এল ইয়াসমিন, বিহঙ্গী বোন আমার, বুলেট বিদ্ধ ইতিহাস, বিপ্লব হে সুন্দর, সুন্দর হে বিপ্লব, একুশের পালা (যাত্রা), পৃথিবী আমার আমি পৃথিবীর, ফিরে আয় মাটির কোলে, হুলহুল, কার টোপে?, বিবর্ণ, রক্ত গোলাপের যাদুকর, এও সম্ভব! ১৯৭৬-৭৭ সালে ইত্যাদি ধরণের প্রভৃতি নাটক লেখার জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃক দ্বিতীয় পুরষ্কারে ভূষিত হন। ইত্যাদি ধরণের প্রভৃতি নাটকটি একই বছরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ও রেডিওতে নবরূপী গোষ্ঠীর দ্বারা অভিনীত ও প্রচারিত হয়, রংপুর নাট্যচক্র আয়োজিত আন্তঃজেলা নাট্যোৎসব’৯৩ এ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, অ্যামেচার থিয়েটার এসোসিয়েশন কর্তৃক থিয়েটার অ্যাওয়ার্ড- ২০০৪ পেয়েছেন তিনি।
দিনাজপুরের নাট্যচর্চার অগ্রপথিক এমন একজন সৃজনশীল নাট্যজনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে বটতলা। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এক বাতিঘর- ভাবীকালের মঞ্চকর্মীদের প্রেরণা। রংপুর বিভাগের বটতলা সম্মাননা ২০১৬ শাহজাহান শাহ্কে দিতে পেরে বটতলা আনন্দিত।