শ্যামল ভট্টাচার্য্য

বটতলা সম্মাননা ২০১৬
৩ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার
রাজশাহী বিভাগ

বগুড়ার নাট্যজগতের একটি উজ্জ্বল আলো শ্যামল ভট্টাচার্য্য। পাড়ায় এবং স্কুলে নাটক করতেন। বাৎসরিক নাটকে তার ডাক পড়তোই। অভিনয়কে মনে-প্রাণে ভালোবেসে কাজ করতেন কিশোর বয়স থেকেই। মঞ্চে কাজ করা তার নেশায় পরিণত হয়। পাড়ায় নাটক করতে করতে এক সময় ডাক পান বগুড়ার স্বনামধন্য এডওয়ার্ড ড্রামাটিক এসোসিয়েশনে (ইডিএ)। বগুড়ার ঘূর্নায়মান সেই মঞ্চের দাপুটে অভিনেতা শ্যামল ভট্টাচার্য্য। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৯ সালের ১০ ফেব্রæয়ারি। পিতা আইনজীবী হৃষিকেশ ভট্টাচার্য্য ও মাতা সুষমা ভট্টাচার্য্য। শ্যামল ভট্টাচার্য্য ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন বগুড়া জিলা স্কুল থেকে। এরপর ভর্তি হন ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল পলিটেকনিক্যালে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগে। স্কলারশীপ নিয়ে পাঠরত শ্যামল ভট্টাচার্য্য নাটকের চর্চাও চালিয়ে যান। পড়াশোনা শেষে ১৯৬৬ সালে বগুড়া জিলা স্কুলেই শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭২ সালের পর বেশ কয়েকজন তরুণ নাট্যকর্মীকে নিয়ে গড়ে তোলেন বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী।
শ্যামল ভট্টাচার্য্য প্রথম অভিনয় করেন ১৯৫৪ সালে টিপু সুলতান নাটকে। এরপর অভিনয় করেছেন মাটির ঘর, স্ট্রীট বেগার, মিশর কুমারী, মীর কাশিম, জবাবদিহি, পাকারাস্তা, সিরাজউদ্দৌলাসহ বেশ কিছু নাটকে। বগুড়া নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে নানা রঙের দিন নাটকটিতে একক অভিনয় করে জেলা শহরে ও জেলার বাইরে তার নাম ডাক ছড়িয়ে পড়ে। নাট্যগোষ্ঠীর বেশ কিছু নাটকে অভিনয় এবং নির্দেশনা দেন। ১৯৮৪ সালে গড়ে তোলেন বগুড়া নাট্যদল। তিনি কাজ করেছেন নুরুলদিনের সারা জীবন, সুবচন নির্বাসনে, কাফন, ঘাটের কথা, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, আমি মন্ত্রী হব, অভিযান, আলোর ঝরনা, খারিজ, দখলসহ প্রায় শতাধিক নাটকে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে মঞ্চ নাটকও করেছেন। নাটক নির্দেশনার পাশাপাশি তিনি নাটক এবং উপন্যাসও লিখেছেন। তাঁর লেখা নাটকের মধ্যে রয়েছে কাফন, দখল, পদ্মরাগ, হলধর মেস। তার প্রকাশিত বই কাফন (নাটক), শুনিয়েছিলাম গান (জীবনী), শ্যামা পাখি (শিশু উপন্যাস) ও কদবানু বেগম নারী (উপন্যাস)। বগুড়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ২০০০ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
শ্যামল ভট্টাচার্য্য ১৯৬৬ সালে সুকৃতি ভট্টাচার্য্যরে সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পরিবারে আছেন ছেলে পিনাকি ভট্টাচার্য্য, মেয়ে লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য্য এবং ছোট ছেলে অভ্র ভট্টাচার্য্য। বগুড়ার নাট্যজগতের এই মানুষটি তরুণ প্রজন্মকে নাট্যচর্চার পথকে সহজ করে দিয়েছেন।
বগুড়ার নাট্যচর্চার অগ্রপথিক এমন একজন সৃজনশীল নাট্যজনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে বটতলা। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এক বাতিঘর- ভাবীকালের মঞ্চকর্মীদের প্রেরণা। রাজশাহী বিভাগের বটতলা সম্মাননা ২০১৬ শ্যামল ভট্টাচার্য্যকে দিতে পেরে বটতলা আনন্দিত।