৮ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | সন্ধ্যা ৭টা | ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি

The-Jublee-Hotel নাটক ও নির্দেশনা: মান্নান হীরা
দল: আরণ্যক নাট্যদল (ঢাকা, বাংলাদেশ)

নাটক কাহিনি:
‘দি জুবলী হোটেল’ নাটকটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মফস্বল শহরের একটি বিখ্যাত চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে। হোটেলটিতে শহরের সর্বস্তরের মানুষের নিয়মিত আড্ডা চলে। হারু মণ্ডল নামের এক প্রবীণ নাট্য নির্দেশক তার দলবল নিয়ে এখানে নিয়মিত আড্ডা মারে আর ‘সুলতান রাজিয়া’ নামক একটি নাটক করার জন্য নিয়মিত মিটিং করে। ২০ বছর যাবৎ এই প্রক্রিয়া চললেও অদ্যবধি সুলতান রাজিয়া মঞ্চে আসেনি। কারণ সুলতান রাজিয়া চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কোনো অভিনেত্রী পাওয়া যাচ্ছেনা।
এদিকে শহরে আসে যাদুর দল ‘দি ঘোষ ম্যাজিক পার্টি’। সেই ম্যাজিক পার্টির নৃত্যশিল্পী হেমামালিনীকে দেখে হারু মণ্ডলের মনে হয় সেই হতে পারে সুলতান রাজিয়া। হারু মণ্ডল তাকে প্রস্তাব দেয় অভিনয় করার জন্য। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ম্যাজিক পার্টির সাথে পাকা স্ট্যাম্পে চুক্তি।
জুবলী হোটেলের কর্মী মমতা। যে কিনা নানা প্রতিকুলতার মাঝেও সারাক্ষণ একটি সুন্দর সংসারের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নির্মম ষড়যন্ত্রে তা ভেঙে হয় খানখান।
জুবলী হোটেলের আরেকজন নিয়মিত আগন্তুক হলেন বাউল। বাউল জুবলী হোটেলে এলে যেন প্রাণের স্পন্দনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে হোটেলটি। বাউলের কণ্ঠে মানব ধর্মের গান শুনে সকলের মনে বোধোদয় হলেও ধর্মীয় উগ্রবাদের সাথে যুক্ত কিছু মানুষের তা ভালো লাগেনা। তাইতো তাদের রোষাণলে পরে বাউল।
এ রকম নানা দ্ব›েদ্বর মধ্য দিয়ে নাটকটির কাহিনী এগুতে এগুতে হঠাৎ এক মারাত্মক সংকট এসে আবির্ভুত হয়। শহরের মেথরকন্যা মনলোভা, যে কিনা নিয়মিত জুবলী হোটেলের সামনের রাস্তা ঝাড়– দিত, সে ধর্ষিত হয়। এ নিয়ে হৈচৈ পরে গেলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় শহরে। শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় ম্যাজিক পার্টি। বাউলকে গুম করে ফেলা হয়। আত্মহত্যা করে মনলোভা। যে জুবলী হোটেলে শিল্প-সংস্কৃতি-বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট মানুষসহ সমাজের প্রগতিশীলদের নিয়মিত আনাগোনা ছিল, প্রগতির বিপক্ষ এক অপশক্তি বন্ধ করে দেয় তাদের আনাগোনা; জ্বলতে থাকে জুবলী হোটেল…

মঞ্চে:
পটল: কৌশিক সাহা/ মাহাফুজ মুন্না
মনলোভা: নিকিতা নন্দিনী
মমতা: রুবলী চৌধুরী
বুলেট: সাঈদ সুমন/ মরু ভাস্কর
বশিরউল্লাহ: তাজউদ্দিন তাজু/ রেজওয়ান পারভেজ
সুরেশ কুন্ডু: কামরুল হাসান
লাবনী:  ফিরোজ মামুন
শ্রাবনী: জুবায়ের জাহিদ
রোজিনা: শাহরান
বাউল: আরিফ হোসেন আপেল
আব্দুল কাদের: শেখ জিয়াদুল হক/ এস রানা
পটু: আল আমিন
কৃষ্ণ ঢুলী: সুজাত শিমুল/ সাক্ষ্য শাহীদ
নাসির মোল্লা: আমিনুল হক
দারোগা: মনির জামান/ অপু মেহেদী
হারুদা: মান্নান হীরা
হেমামালিনী: তমালিকা কর্মকার
অঞ্জন: সাজ্জাদ সাজু/ ইশতিয়াক হোসেন
জনা: রিয়া/ রানু/ রিমা
মনতোষ ঘোষ: আমানুল হক হেলাল/ পার্থ চ্যাটার্জী
কুকুর ৩ জন: মুন্না, অহৃত, মনোজ

নেপথ্যে:
সহকারী নির্দেশক: কামরুল হাসান
মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা: ফয়েজ জহির
সহকারী আলোক পরিকল্পনা: ইশতিয়াক হোসেন
সঙ্গীত পরিকল্পনা: সুজেয় শ্যাম
সহকারী সঙ্গীত পরিকল্পনা: সাক্ষ্য শাহীদ/ ইশতিয়াক হোসেন
পোষাক পরিকল্পনা: সুরাইয়া শান্তা
সহকারী পোষাক পরিকল্পনা: সিনথিয়া রহমান
দ্রব্যসামগ্রী: মাহাফুজ মুন্না, অহৃত
রূপসজ্জা: মোহাম্মাদ আলী
কোরিওগ্রাফি: র‌্যাচেল প্রিয়াংকা পেরিস
বাদ্যযন্ত্রী: আমিনুল হক, মরু ভাস্কর, কৌশিক সাহা, উচ্ছাস ঘোষ
পোস্টার ও প্রকাশনা: মোস্তাফিজ কারিগর, অপু মেহেদী
মঞ্চ নির্মান সমন্বয়কারী: তাজউদ্দিন তাজু
মঞ্চ নির্মান কর্মী: জাহিদ, মুন্না, সাক্ষ্য, অহৃত, সাকিব, রনী
প্রযোজনা অধিকর্তা: কামরুল হাসান