৯ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার সকাল ১০টা
নাসিরুদ্দিন নাদিম মঞ্চ, বহিরাঙ্গন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি

9.-Pappet-font গবেষণা, পরিকল্পনা ও প্রয়োগ: ড. রশীদ হারুন
দল: বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র

দলের কথা:
পুতুল মানুষের চিরকালীন সঙ্গী। এমন জাতি গোষ্ঠী ধর্ম বর্ণের মানুষ পাওয়া দুষ্কর যারা শিশুর হাতে পুতুল তুলে দেন না তাদের কান্না থামিয়ে মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। মানব সভ্যতার সমান বয়সি এই পুতুল সুতা কিংবা কাঠির সাহায্যে নড়াচড়া করিয়ে বিনোদন ও লোকশিক্ষার মাধ্যম হিসাবে মানুষ ব্যবহার করে আসছে– তার ইতিহাস-ঐতিহ্যও হাজার বছরের। ইতিহাস ও প্রামাণ্য দ্বারা স্বীকৃত যে ভারতবর্ষ পুতুলনাট্যের আদিভুমি। বাংলাদেশেও পুতুলনাট্যের ঐতিহ্য হাজার বছরের– এ কথা আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছি গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে। অবশ্য নৃত্যভঙ্গিমায় সঞ্চলমান এই শিল্প আঙ্গিকটি এই অঞ্চলে পরিচিত ‘পুতুলনাচ’ পরিভাষায়; যদিও এটি নৃত্যের কোন আঙ্গিক হিসাবে বিবেচনা করা হয় নি কোন কালে। আঙ্গিক শৈলি, পরিবেশনা, শিল্পকুশলতা ইত্যদি বিবেচনায় এটি পরিপূর্ণভাবে থিয়েটারের একটি সমৃদ্ধ শাখা বিধায় একে আমরা ‘পুতুলনাট্য’ হিসাবে অবিহিত করার পক্ষে।
আমরা চাইছি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সুতা পুতুল’- নাট্যের আঙ্গিক ও পরিবেশনা শৈলীকে অক্ষুণœ রেখে কেবল পুতুল তৈরি, বিষয় নির্বাচন (গল্প বা কাহিনি প্রস্তুত), অভিনয় কুশলতা (পুতুল চালনা, বাচিক অভিনয়, সঙ্গীত ইত্যাদি), দৃশ্যায়ন প্রভৃতিকে কাল-উপযোগী করতে। আমরা এই জনপদের পুতুল-ভাষার পাতা-চটার বাঁশি অক্ষুণœ রাখারও পক্ষে। আমাদের চারপাশে লভ্য নানা উপকরণ উপাদান ব্যবহার-বর্জনের নানাবিধ নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন পুতুল ও বিষয়সমূহ। তাইতো একে আমরা বলছি ‘গবেষণাগার পুতুলনাট্য’।